Courses/ General Knowledge/ Chapter 3
Chapter 03 of 10

বাংলাদেশের সংবিধান

প্রস্তাবনা, কাঠামো, মূলনীতি, মৌলিক অধিকার, সংশোধনী ও পরীক্ষায় আসা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

📖 ১১ সেকশন 📝 ১০ MCQ ⏱️ ~২৫ মিনিট
📋 বিষয়সূচি
  1. সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস
  2. সংবিধানের প্রস্তাবনা
  3. সংবিধানের কাঠামো (১১টি ভাগ)
  4. তফসিল (Schedules)
  5. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
  6. নাগরিকত্ব
  7. মৌলিক অধিকার
  8. জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন
  9. গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী
  10. জরুরি অবস্থা ও বিশেষ বিধান
  11. গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ সমগ্র

📌 সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের জন্য একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে ওঠে। ১৯৭০ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত গণপরিষদ সংবিধান রচনার দায়িত্ব পায়।

২৩ মার্চ ১৯৭২ গণপরিষদ আদেশ (Bangladesh Constituent Assembly Order) জারি
১০ এপ্রিল ১৯৭২ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন; ৩৪ সদস্যের সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
১১ অক্টোবর ১৯৭২ সংবিধানের খসড়া গণপরিষদে উত্থাপন
৪ নভেম্বর ১৯৭২ গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত (সর্বসম্মতিক্রমে)
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সংবিধান কার্যকর হয় (বিজয় দিবসের প্রথম বার্ষিকী)
💡 সংবিধানের মূল তথ্য
  • গণপরিষদ সদস্য: ৪০৪ জন (৪০৩ নির্বাচিত + ১ জন মনোনীত)
  • সংবিধান প্রণয়ন কমিটি: ৩৪ সদস্যের কমিটি, সভাপতি: ড. কামাল হোসেন
  • একমাত্র মহিলা সদস্য: বেগম রাজিয়া বানু
  • সংবিধানে মোট: ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ৪টি তফসিল
  • মূল ভাষা: বাংলা (ইংরেজি অনুবাদও আছে; তবে বাংলা ও ইংরেজি পাঠে বিরোধ হলে বাংলা প্রাধান্য পাবে)
  • সংবিধানের হাতে লেখা অনুলিপি: শিল্পী আবদুর রউফ কর্তৃক অলংকৃত
🧠 তারিখ মনে রাখুন

"৪-১৬" → ৪ নভেম্বর গৃহীত, ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর। উভয়ই ১৯৭২ সালে।

📌 সংবিধানের প্রস্তাবনা (Preamble)

সংবিধানের প্রস্তাবনা হলো এর আত্মা ও দর্শন। এটি সংবিধানের অংশ হলেও আদালতে বলবৎযোগ্য নয়। তবে সংবিধান ব্যাখ্যায় প্রস্তাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ... একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র (Republic) রূপে ... জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা — এই নীতিসমূহ যেন ... রাষ্ট্রের মূলনীতি হয় ... এতদ্বারা ... সংবিধান রচনা ... ও বিধিবদ্ধ করিলাম।

💡 প্রস্তাবনার মূল বিষয়সমূহ
  • মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের ঘোষণা
  • চার মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা
  • মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার
  • শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য
  • আইনের শাসন, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা
🎯 BCS / Bank পরীক্ষা টিপ

প্রস্তাবনায় "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" যোগ করা হয় ৫ম সংশোধনীতে (১৯৭৯)। আবার ১৫তম সংশোধনীতে (২০১১) মূল চার নীতি পুনঃস্থাপিত হয় এবং "বিসমিল্লাহ" বহাল থাকে।

📌 সংবিধানের কাঠামো (১১টি ভাগ)

বাংলাদেশের সংবিধান ১১টি ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগের বিষয়বস্তু জানা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

ভাগ বিষয় অনুচ্ছেদ
১ম প্রজাতন্ত্র ১ – ৭
২য় রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ৮ – ২৫
৩য় মৌলিক অধিকার ২৬ – ৪৭ক
৪র্থ নির্বাহী বিভাগ (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী) ৪৮ – ৫৮
৫ম আইনসভা (জাতীয় সংসদ) ৬৫ – ৯৩
৬ষ্ঠ বিচার বিভাগ ৯৪ – ১১৭
৭ম নির্বাচন ১১৮ – ১২৬
৮ম মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ১২৭ – ১৩২
৯ম বাংলাদেশের কর্মবিভাগ (চাকরি) ১৩৩ – ১৪১
৯ক জরুরি অবস্থা ১৪১ক – ১৪১গ
১০ম সংবিধান সংশোধন ১৪২
১১শ বিবিধ (ফার্সি ভাষায় সংজ্ঞা, প্রবর্তন ইত্যাদি) ১৪৩ – ১৫৩
🧠 ভাগ মনে রাখুন

"প্র-মূ-মৌ-নির্বা-আইন-বি-নির্বাচ-হিসাব-কর্ম-জরু-সং-বিবি"
→ প্রজাতন্ত্র → মূলনীতি → মৌলিক অধিকার → নির্বাহী → আইনসভা → বিচার → নির্বাচন → হিসাব → কর্মবিভাগ → জরুরি → সংশোধন → বিবিধ

📌 তফসিল (Schedules)

সংবিধানে ৪টি তফসিল রয়েছে যা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে:

তফসিল বিষয়বস্তু
১ম তফসিল অন্যান্য বিধান যা বলবৎযোগ্য (অনুচ্ছেদ ৪৭ সম্পর্কিত আইন)
২য় তফসিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধান
৩য় তফসিল শপথ ও ঘোষণা
৪র্থ তফসিল ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি
🎯 পরীক্ষায় ঘন ঘন আসে

৩য় তফসিল = শপথ ও ঘোষণা। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার সকলের শপথপাঠের বিধান এই তফসিলে আছে। মনে রাখুন: "তিন = তিন অক্ষরে শপথ"

📌 রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ৮-২৫) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বর্ণিত আছে। এগুলো আদালতে বলবৎযোগ্য নয় (অনুচ্ছেদ ৮(২)) তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় মৌলিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।

চারটি মূলনীতি:

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নীতি:

অনুচ্ছেদ বিষয়
১৩ মালিকানা নীতি (রাষ্ট্রীয়, সমবায় ও ব্যক্তিগত)
১৪ কৃষক ও শ্রমিকদের মুক্তি
১৫ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা (অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, আশ্রয়)
১৬ গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব
১৭ অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
১৮ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
১৯ সুযোগের সমতা
২০ অধিকার ও কর্তব্য হিসেবে কর্ম
২৫ আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতি
🧠 মূলনীতি মনে রাখুন

জা-স-গ-ধজাতীয়তাবাদ → মাজতন্ত্র → ণতন্ত্র → র্মনিরপেক্ষতা

⚖️ মূলনীতি vs মৌলিক অধিকার
  • মূলনীতি: আদালতে বলবৎযোগ্য নয় (অনুচ্ছেদ ৮(২))
  • মৌলিক অধিকার: আদালতে বলবৎযোগ্য (অনুচ্ছেদ ৪৪, হাইকোর্টে রিট আবেদন)
  • মূলনীতি রাষ্ট্র পরিচালনায় নির্দেশমূলক; মৌলিক অধিকার নাগরিকের আইনগত অধিকার

📌 নাগরিকত্ব

সংবিধানের প্রথম ভাগে (অনুচ্ছেদ ৬-৭) নাগরিকত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে:

💡 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাংলাদেশের সংবিধানে দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃত নয়। তবে ২০০১ সালে দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য পৃথক আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

📌 মৌলিক অধিকার

সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭ক) নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত আছে। এগুলো সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনের (Writ Petition) মাধ্যমে বলবৎযোগ্য (অনুচ্ছেদ ১০২)।

মৌলিক অধিকারের ধরন:

অনুচ্ছেদ বিষয় বিস্তারিত
২৬ মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্য আইন বাতিল কোনো আইন মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হলে তা বাতিল
২৭ আইনের দৃষ্টিতে সমতা সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান
২৮ বৈষম্য নিষিদ্ধ ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্য নিষিদ্ধ
২৯ সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা সকল নাগরিকের সরকারি নিয়োগে সমান সুযোগ
৩১ আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার আইন অনুযায়ী ব্যবহার পাওয়ার অধিকার
৩২ জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার আইন ব্যতীত কাউকে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে বঞ্চিত করা যাবে না
৩৩ গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ গ্রেফতারের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির
৩৪ জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ সকল প্রকার বেগার শ্রম নিষিদ্ধ
৩৫ বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ অপরাধ সংঘটনের সময় যে আইন ছিল তার বেশি দণ্ড দেওয়া যাবে না
৩৬ চলাফেরার স্বাধীনতা সমগ্র বাংলাদেশে অবাধ চলাফেরা ও বসবাসের অধিকার
৩৭ সমাবেশের স্বাধীনতা শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমাবেশের অধিকার
৩৮ সংগঠনের স্বাধীনতা সমিতি বা সংঘ গঠনের অধিকার
৩৯ চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা; সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৪০ পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা যে কোনো বৈধ পেশা গ্রহণের অধিকার
৪১ ধর্মীয় স্বাধীনতা নিজ ধর্ম পালন, প্রচার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার
৪২ সম্পত্তির অধিকার সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর ও বিক্রয়ের অধিকার
৪৩ গৃহ ও চিঠিপত্রের রক্ষণ গৃহ, চিঠিপত্র ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার
৪৪ মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ হাইকোর্ট বিভাগে মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে মামলা দায়েরের অধিকার
🎯 মৌলিক অধিকার — পরীক্ষার প্যাটার্ন
  • অনুচ্ছেদ ২৭ (সমতা) ও ৩৯ (বাক্‌-স্বাধীনতা) সবচেয়ে বেশি আসে
  • গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টা নিয়ম (অনুচ্ছেদ ৩৩) প্রায়ই প্রশ্ন হয়
  • অনুচ্ছেদ ৪৭ক: যুদ্ধাপরাধীদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা যায় (১ম সংশোধনী)
  • রিট দায়ের করা হয় অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী (ষষ্ঠ ভাগ), কিন্তু অধিকার পাওয়া যায় অনুচ্ছেদ ৪৪ থেকে
🧠 মৌলিক অধিকারের সংখ্যা

মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৩ + ৪৪)। গ্রুপ: সাম্য (২৭-২৯) → স্বাধীনতা (৩১-৪৩) → বলবৎকরণ (৪৪)

📌 জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন

সংবিধানের পঞ্চম ভাগে জাতীয় সংসদ এবং সপ্তম ভাগে নির্বাচন সম্পর্কিত বিধান রয়েছে:

জাতীয় সংসদ (অনুচ্ছেদ ৬৫):

নির্বাচন সংক্রান্ত:

💡 সংসদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
  • সংসদ ভবন: শেরেবাংলা নগর, ঢাকা (স্থপতি: লুই আই কান)
  • প্রথম স্পিকার: মোহাম্মদ উল্লাহ (১৯৭৩)
  • বাজেট উত্থাপন: সংসদে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক (অনুচ্ছেদ ৮৭)
  • অর্থ বিল: কেবল সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন; রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য

📌 গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী

সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হতে হবে (অনুচ্ছেদ ১৪২)। এ পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী পাস হয়েছে:

সংশোধনী সাল বিষয়বস্তু গুরুত্ব
১ম ১৯৭৩ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার; অনুচ্ছেদ ৪৭ক সংযোজন ⭐⭐⭐
২য় ১৯৭৩ জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান; মৌলিক অধিকার স্থগিত ⭐⭐
৩য় ১৯৭৪ ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর
৪র্থ ১৯৭৫ একদলীয় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা (BAKSAL) ⭐⭐⭐
৫ম ১৯৭৯ ১৯৭৫-৭৯ সামরিক শাসন বৈধকরণ; প্রস্তাবনায় "বিসমিল্লাহ" যোগ ⭐⭐⭐
৭ম ১৯৮৬ ১৯৮২-৮৬ সামরিক শাসন বৈধকরণ ⭐⭐
৮ম ১৯৮৮ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম; হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন ⭐⭐⭐
১০ম ১৯৯০ সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০ → পরবর্তী ১০ বছরের জন্য বৃদ্ধি
১২তম ১৯৯১ সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন (প্রধানমন্ত্রী প্রধান নির্বাহী) ⭐⭐⭐
১৩তম ১৯৯৬ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ⭐⭐⭐
১৪তম ২০০৪ সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৫; বিচারপতিদের অবসর বয়স ৬৫→৬৭ ⭐⭐
১৫তম ২০১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল; মূলনীতি পুনঃস্থাপন; ৭ক, ৭খ সংযোজন ⭐⭐⭐
১৬তম ২০১৪ বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে আনা (বাতিল হয়ে যায়) ⭐⭐
১৭তম ২০১৮ সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০; আরও ২৫ বছর বৃদ্ধি ⭐⭐
🧠 সংশোধনী মনে রাখুন

৪-৫-৮-১২-১৩-১৫ — এই ৬টি সংশোধনী সবচেয়ে বেশি পরীক্ষায় আসে।
৪র্থ = BAKSAL, ৫ম = সামরিক + বিসমিল্লাহ, ৮ম = রাষ্ট্রধর্ম, ১২তম = সংসদীয়, ১৩তম = তত্ত্বাবধায়ক, ১৫তম = তত্ত্বাবধায়ক বাতিল

🎯 কনফিউশন এড়ান
  • ৫ম সংশোধনী বৈধতা দেয় ১৯৭৫-৭৯ সামরিক শাসনকে → ৭ম সংশোধনী বৈধতা দেয় ১৯৮২-৮৬ সামরিক শাসনকে
  • ১৩তম তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু করে → ১৫তম তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে
  • অনুচ্ছেদ ৭ক: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য (১৫তম সংশোধনী)

📌 জরুরি অবস্থা ও বিশেষ বিধান

সংবিধানের ভাগ ৯ক-তে (অনুচ্ছেদ ১৪১ক-১৪১গ) জরুরি অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে:

💡 জরুরি অবস্থা — মূল পয়েন্ট
  • জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে)
  • জরুরি অবস্থায় অনুচ্ছেদ ৩৬-৪০ এর অধিকার স্থগিত করা যায়
  • জীবনের অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩২) কখনোই স্থগিত করা যায় না
  • ২য় সংশোধনীতে (১৯৭৩) জরুরি অবস্থার বিধান সংযোজিত হয়

📌 গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ সমগ্র

BCS, Bank ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার যেসব অনুচ্ছেদ থেকে প্রশ্ন আসে — সবগুলো এক নজরে:

অনুচ্ছেদ বিষয় পরীক্ষায় আসার মাত্রা
বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র ⭐⭐⭐
রাজধানী ঢাকা
২ক রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম (৮ম সংশোধনী) ⭐⭐⭐
রাষ্ট্রভাষা বাংলা ⭐⭐⭐
জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক ⭐⭐
৪ক জাতির পিতার প্রতিকৃতি (১৫তম সংশোধনী) ⭐⭐
সংবিধান সর্বোচ্চ আইন; জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক ⭐⭐⭐
৭ক সংবিধানের মৌলিক বিধান অপরিবর্তনীয় (১৫তম সংশোধনী) ⭐⭐⭐
৭খ সংবিধান বাতিলে শাস্তি — রাষ্ট্রদ্রোহ ⭐⭐
১১ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ⭐⭐
২৭ আইনের দৃষ্টিতে সমতা ⭐⭐⭐
৩৯ চিন্তা, বিবেক ও বাক্‌-স্বাধীনতা ⭐⭐⭐
৪৮ রাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রের প্রধান, আনুষ্ঠানিক) ⭐⭐⭐
৫৫ মন্ত্রিসভা (প্রধানমন্ত্রীই প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী) ⭐⭐⭐
৬৫ জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা ⭐⭐⭐
৭০ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল (ফ্লোর ক্রসিং) ⭐⭐⭐
৭৭ ন্যায়পাল (Ombudsman) নিয়োগ ⭐⭐
৯৪ সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা (আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ) ⭐⭐⭐
১০০ হাইকোর্ট বিভাগের আসন ঢাকায় ⭐⭐
১০২ হাইকোর্টের রিট এখতিয়ার ⭐⭐⭐
১৪২ সংবিধান সংশোধন (দুই-তৃতীয়াংশ ভোট) ⭐⭐⭐
১৫২ সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা
💡 সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি (অনুচ্ছেদ ১৪২)
  • সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংশোধনী বিল পাস হবে
  • পাসের পর ৭ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পেশ করতে হবে
  • রাষ্ট্রপতি ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন, না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মতি পেয়েছে বলে গণ্য
  • তবে অনুচ্ছেদ ৭ক অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক কাঠামো (basic structure) পরিবর্তন করা যায় না
🎯 চূড়ান্ত রিভিশন — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ Point গুলো
  • সংবিধান দিবস — ৪ নভেম্বর
  • সংবিধান কার্যকর — ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
  • কমিটি সভাপতি — ড. কামাল হোসেন
  • সংবিধানের ভাগ — ১১টি, অনুচ্ছেদ — ১৫৩টি, তফসিল — ৪টি
  • সর্বোচ্চ আইন — অনুচ্ছেদ ৭
  • সংশোধনের জন্য — দুই-তৃতীয়াংশ ভোট
  • ফ্লোর ক্রসিং — অনুচ্ছেদ ৭০
  • রাষ্ট্রভাষা বাংলা — অনুচ্ছেদ ৩
  • রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম — অনুচ্ছেদ ২ক (৮ম সংশোধনী)
✅ Quick Check
অধ্যায়টি ঠিকমতো বুঝেছেন কিনা যাচাই করুন — ১০টি প্রশ্ন
স্কোর:
০/১০
১. বাংলাদেশের সংবিধান কবে কার্যকর হয়?
💡 সংবিধান ৪ নভেম্বর ১৯৭২ গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ (বিজয় দিবসে) কার্যকর হয়।
২. রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি কোন ভাগে আছে?
💡 রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ৮-২৫) বর্ণিত আছে।
৩. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষা বাংলা বলা হয়েছে?
💡 অনুচ্ছেদ ৩-এ বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।
৪. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয় কত তম সংশোধনীতে?
💡 ১২তম সংশোধনীর (১৯৯১) মাধ্যমে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
৫. সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি কে ছিলেন?
💡 সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন। ৩৪ সদস্যের এই কমিটি সংবিধান রচনা করে।
৬. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদকে "সংবিধানের সুপ্রিমেসি" বলা হয়?
💡 অনুচ্ছেদ ৭-এ বলা হয়েছে, সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক।
৭. ৮ম সংশোধনীতে কী করা হয়েছিল?
💡 ৮ম সংশোধনীতে (১৯৮৮) রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম ঘোষণা করা হয় এবং অনুচ্ছেদ ২ক সংযোজন করা হয়।
৮. "ফ্লোর ক্রসিং" সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ কোনটি?
💡 অনুচ্ছেদ ৭০: কোনো সদস্য সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে।
৯. জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন কতটি?
💡 ১৭তম সংশোধনী (২০১৮) অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০টি। মোট আসন ৩৫০ (৩০০ + ৫০)।
১০. সংবিধানের ৩য় তফসিলে কী আছে?
💡 ৩য় তফসিলে শপথ ও ঘোষণার বিধান আছে। ২য় তফসিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ৪র্থ তফসিলে ক্রান্তিকালীন বিধান।
← Previous: বাংলাদেশের ভূগোল Next: সরকার ব্যবস্থা →