📌 সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের জন্য একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে ওঠে। ১৯৭০ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত গণপরিষদ সংবিধান রচনার দায়িত্ব পায়।
- গণপরিষদ সদস্য: ৪০৪ জন (৪০৩ নির্বাচিত + ১ জন মনোনীত)
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটি: ৩৪ সদস্যের কমিটি, সভাপতি: ড. কামাল হোসেন
- একমাত্র মহিলা সদস্য: বেগম রাজিয়া বানু
- সংবিধানে মোট: ১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ, ৪টি তফসিল
- মূল ভাষা: বাংলা (ইংরেজি অনুবাদও আছে; তবে বাংলা ও ইংরেজি পাঠে বিরোধ হলে বাংলা প্রাধান্য পাবে)
- সংবিধানের হাতে লেখা অনুলিপি: শিল্পী আবদুর রউফ কর্তৃক অলংকৃত
"৪-১৬" → ৪ নভেম্বর গৃহীত, ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর। উভয়ই ১৯৭২ সালে।
📌 সংবিধানের প্রস্তাবনা (Preamble)
সংবিধানের প্রস্তাবনা হলো এর আত্মা ও দর্শন। এটি সংবিধানের অংশ হলেও আদালতে বলবৎযোগ্য নয়। তবে সংবিধান ব্যাখ্যায় প্রস্তাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ... একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র (Republic) রূপে ... জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা — এই নীতিসমূহ যেন ... রাষ্ট্রের মূলনীতি হয় ... এতদ্বারা ... সংবিধান রচনা ... ও বিধিবদ্ধ করিলাম।
- মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের ঘোষণা
- চার মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা
- মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার
- শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য
- আইনের শাসন, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা
প্রস্তাবনায় "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম" যোগ করা হয় ৫ম সংশোধনীতে (১৯৭৯)। আবার ১৫তম সংশোধনীতে (২০১১) মূল চার নীতি পুনঃস্থাপিত হয় এবং "বিসমিল্লাহ" বহাল থাকে।
📌 সংবিধানের কাঠামো (১১টি ভাগ)
বাংলাদেশের সংবিধান ১১টি ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগের বিষয়বস্তু জানা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
| ভাগ | বিষয় | অনুচ্ছেদ |
|---|---|---|
| ১ম | প্রজাতন্ত্র | ১ – ৭ |
| ২য় | রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি | ৮ – ২৫ |
| ৩য় | মৌলিক অধিকার | ২৬ – ৪৭ক |
| ৪র্থ | নির্বাহী বিভাগ (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী) | ৪৮ – ৫৮ |
| ৫ম | আইনসভা (জাতীয় সংসদ) | ৬৫ – ৯৩ |
| ৬ষ্ঠ | বিচার বিভাগ | ৯৪ – ১১৭ |
| ৭ম | নির্বাচন | ১১৮ – ১২৬ |
| ৮ম | মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক | ১২৭ – ১৩২ |
| ৯ম | বাংলাদেশের কর্মবিভাগ (চাকরি) | ১৩৩ – ১৪১ |
| ৯ক | জরুরি অবস্থা | ১৪১ক – ১৪১গ |
| ১০ম | সংবিধান সংশোধন | ১৪২ |
| ১১শ | বিবিধ (ফার্সি ভাষায় সংজ্ঞা, প্রবর্তন ইত্যাদি) | ১৪৩ – ১৫৩ |
"প্র-মূ-মৌ-নির্বা-আইন-বি-নির্বাচ-হিসাব-কর্ম-জরু-সং-বিবি"
→ প্রজাতন্ত্র → মূলনীতি → মৌলিক অধিকার → নির্বাহী → আইনসভা → বিচার → নির্বাচন → হিসাব → কর্মবিভাগ → জরুরি → সংশোধন → বিবিধ
📌 তফসিল (Schedules)
সংবিধানে ৪টি তফসিল রয়েছে যা প্রায়ই পরীক্ষায় আসে:
| তফসিল | বিষয়বস্তু |
|---|---|
| ১ম তফসিল | অন্যান্য বিধান যা বলবৎযোগ্য (অনুচ্ছেদ ৪৭ সম্পর্কিত আইন) |
| ২য় তফসিল | রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধান |
| ৩য় তফসিল | শপথ ও ঘোষণা |
| ৪র্থ তফসিল | ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি |
৩য় তফসিল = শপথ ও ঘোষণা। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার সকলের শপথপাঠের বিধান এই তফসিলে আছে। মনে রাখুন: "তিন = তিন অক্ষরে শপথ"।
📌 রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ৮-২৫) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বর্ণিত আছে। এগুলো আদালতে বলবৎযোগ্য নয় (অনুচ্ছেদ ৮(২)) তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় মৌলিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
চারটি মূলনীতি:
- জাতীয়তাবাদ (অনুচ্ছেদ ৯): ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ
- সমাজতন্ত্র (অনুচ্ছেদ ১০): শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা; উৎপাদন ব্যবস্থায় জনগণের মালিকানা
- গণতন্ত্র (অনুচ্ছেদ ১১): প্রজাতন্ত্রে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা; মানবাধিকার ও মর্যাদার নিশ্চয়তা
- ধর্মনিরপেক্ষতা (অনুচ্ছেদ ১২): সকল ধর্মের সমান অধিকার; রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার রোধ
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নীতি:
| অনুচ্ছেদ | বিষয় |
|---|---|
| ১৩ | মালিকানা নীতি (রাষ্ট্রীয়, সমবায় ও ব্যক্তিগত) |
| ১৪ | কৃষক ও শ্রমিকদের মুক্তি |
| ১৫ | মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা (অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, আশ্রয়) |
| ১৬ | গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব |
| ১৭ | অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা |
| ১৮ | জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা |
| ১৯ | সুযোগের সমতা |
| ২০ | অধিকার ও কর্তব্য হিসেবে কর্ম |
| ২৫ | আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতি |
জা-স-গ-ধ → জাতীয়তাবাদ → সমাজতন্ত্র → গণতন্ত্র → ধর্মনিরপেক্ষতা
- মূলনীতি: আদালতে বলবৎযোগ্য নয় (অনুচ্ছেদ ৮(২))
- মৌলিক অধিকার: আদালতে বলবৎযোগ্য (অনুচ্ছেদ ৪৪, হাইকোর্টে রিট আবেদন)
- মূলনীতি রাষ্ট্র পরিচালনায় নির্দেশমূলক; মৌলিক অধিকার নাগরিকের আইনগত অধিকার
📌 নাগরিকত্ব
সংবিধানের প্রথম ভাগে (অনুচ্ছেদ ৬-৭) নাগরিকত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে:
- অনুচ্ছেদ ৬(১): বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত
- অনুচ্ছেদ ৬(২): বাংলাদেশের জনগণ বাঙালি বলে পরিচিত হবেন
- নাগরিকত্ব আইন ১৯৫১ (সংশোধিত) বাংলাদেশে নাগরিকত্বের বিস্তারিত বিধান নির্ধারণ করে
বাংলাদেশের সংবিধানে দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃত নয়। তবে ২০০১ সালে দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য পৃথক আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
📌 মৌলিক অধিকার
সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭ক) নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত আছে। এগুলো সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদনের (Writ Petition) মাধ্যমে বলবৎযোগ্য (অনুচ্ছেদ ১০২)।
মৌলিক অধিকারের ধরন:
- সাম্যের অধিকার: অনুচ্ছেদ ২৭-২৯
- স্বাধীনতার অধিকার: অনুচ্ছেদ ৩১-৩৬
- শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার: অনুচ্ছেদ ৩৪
- ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার: অনুচ্ছেদ ৪১
- সম্পত্তির অধিকার: অনুচ্ছেদ ৪২
| অনুচ্ছেদ | বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| ২৬ | মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্য আইন বাতিল | কোনো আইন মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হলে তা বাতিল |
| ২৭ | আইনের দৃষ্টিতে সমতা | সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান |
| ২৮ | বৈষম্য নিষিদ্ধ | ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থানের কারণে বৈষম্য নিষিদ্ধ |
| ২৯ | সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা | সকল নাগরিকের সরকারি নিয়োগে সমান সুযোগ |
| ৩১ | আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার | আইন অনুযায়ী ব্যবহার পাওয়ার অধিকার |
| ৩২ | জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার | আইন ব্যতীত কাউকে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হতে বঞ্চিত করা যাবে না |
| ৩৩ | গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ | গ্রেফতারের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির |
| ৩৪ | জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ | সকল প্রকার বেগার শ্রম নিষিদ্ধ |
| ৩৫ | বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ | অপরাধ সংঘটনের সময় যে আইন ছিল তার বেশি দণ্ড দেওয়া যাবে না |
| ৩৬ | চলাফেরার স্বাধীনতা | সমগ্র বাংলাদেশে অবাধ চলাফেরা ও বসবাসের অধিকার |
| ৩৭ | সমাবেশের স্বাধীনতা | শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমাবেশের অধিকার |
| ৩৮ | সংগঠনের স্বাধীনতা | সমিতি বা সংঘ গঠনের অধিকার |
| ৩৯ | চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা | চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা; সংবাদপত্রের স্বাধীনতা |
| ৪০ | পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা | যে কোনো বৈধ পেশা গ্রহণের অধিকার |
| ৪১ | ধর্মীয় স্বাধীনতা | নিজ ধর্ম পালন, প্রচার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার |
| ৪২ | সম্পত্তির অধিকার | সম্পত্তি অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর ও বিক্রয়ের অধিকার |
| ৪৩ | গৃহ ও চিঠিপত্রের রক্ষণ | গৃহ, চিঠিপত্র ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার |
| ৪৪ | মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ | হাইকোর্ট বিভাগে মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে মামলা দায়েরের অধিকার |
- অনুচ্ছেদ ২৭ (সমতা) ও ৩৯ (বাক্-স্বাধীনতা) সবচেয়ে বেশি আসে
- গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টা নিয়ম (অনুচ্ছেদ ৩৩) প্রায়ই প্রশ্ন হয়
- অনুচ্ছেদ ৪৭ক: যুদ্ধাপরাধীদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা যায় (১ম সংশোধনী)
- রিট দায়ের করা হয় অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী (ষষ্ঠ ভাগ), কিন্তু অধিকার পাওয়া যায় অনুচ্ছেদ ৪৪ থেকে
মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৩ + ৪৪)। গ্রুপ: সাম্য (২৭-২৯) → স্বাধীনতা (৩১-৪৩) → বলবৎকরণ (৪৪)।
📌 জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন
সংবিধানের পঞ্চম ভাগে জাতীয় সংসদ এবং সপ্তম ভাগে নির্বাচন সম্পর্কিত বিধান রয়েছে:
জাতীয় সংসদ (অনুচ্ছেদ ৬৫):
- মোট আসন: ৩৫০ (৩০০ সাধারণ + ৫০ সংরক্ষিত মহিলা আসন)
- নাম: জাতীয় সংসদ (House of the Nation)
- সংসদের মেয়াদ: ৫ বছর (অনুচ্ছেদ ৭২)
- স্পিকার: সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত (অনুচ্ছেদ ৭৪)
- কোরাম: মোট সদস্য সংখ্যার ১/৫ অংশ (৬০ জন)
নির্বাচন সংক্রান্ত:
- অনুচ্ছেদ ১১৮: নির্বাচন কমিশন গঠন
- অনুচ্ছেদ ১১৯: নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার: রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ
- ভোটার হওয়ার বয়স: ১৮ বছর
- সংসদ সদস্য হওয়ার বয়স: ২৫ বছর
- সংসদ ভবন: শেরেবাংলা নগর, ঢাকা (স্থপতি: লুই আই কান)
- প্রথম স্পিকার: মোহাম্মদ উল্লাহ (১৯৭৩)
- বাজেট উত্থাপন: সংসদে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক (অনুচ্ছেদ ৮৭)
- অর্থ বিল: কেবল সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন; রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে বাধ্য
📌 গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী
সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হতে হবে (অনুচ্ছেদ ১৪২)। এ পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী পাস হয়েছে:
| সংশোধনী | সাল | বিষয়বস্তু | গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| ১ম | ১৯৭৩ | যুদ্ধাপরাধীদের বিচার; অনুচ্ছেদ ৪৭ক সংযোজন | ⭐⭐⭐ |
| ২য় | ১৯৭৩ | জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান; মৌলিক অধিকার স্থগিত | ⭐⭐ |
| ৩য় | ১৯৭৪ | ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কার্যকর | ⭐ |
| ৪র্থ | ১৯৭৫ | একদলীয় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা (BAKSAL) | ⭐⭐⭐ |
| ৫ম | ১৯৭৯ | ১৯৭৫-৭৯ সামরিক শাসন বৈধকরণ; প্রস্তাবনায় "বিসমিল্লাহ" যোগ | ⭐⭐⭐ |
| ৭ম | ১৯৮৬ | ১৯৮২-৮৬ সামরিক শাসন বৈধকরণ | ⭐⭐ |
| ৮ম | ১৯৮৮ | রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম; হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপন | ⭐⭐⭐ |
| ১০ম | ১৯৯০ | সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০ → পরবর্তী ১০ বছরের জন্য বৃদ্ধি | ⭐ |
| ১২তম | ১৯৯১ | সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন (প্রধানমন্ত্রী প্রধান নির্বাহী) | ⭐⭐⭐ |
| ১৩তম | ১৯৯৬ | নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন | ⭐⭐⭐ |
| ১৪তম | ২০০৪ | সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৫; বিচারপতিদের অবসর বয়স ৬৫→৬৭ | ⭐⭐ |
| ১৫তম | ২০১১ | তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল; মূলনীতি পুনঃস্থাপন; ৭ক, ৭খ সংযোজন | ⭐⭐⭐ |
| ১৬তম | ২০১৪ | বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে আনা (বাতিল হয়ে যায়) | ⭐⭐ |
| ১৭তম | ২০১৮ | সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০; আরও ২৫ বছর বৃদ্ধি | ⭐⭐ |
৪-৫-৮-১২-১৩-১৫ — এই ৬টি সংশোধনী সবচেয়ে বেশি পরীক্ষায় আসে।
৪র্থ = BAKSAL, ৫ম = সামরিক + বিসমিল্লাহ, ৮ম = রাষ্ট্রধর্ম, ১২তম = সংসদীয়, ১৩তম = তত্ত্বাবধায়ক, ১৫তম = তত্ত্বাবধায়ক বাতিল
- ৫ম সংশোধনী বৈধতা দেয় ১৯৭৫-৭৯ সামরিক শাসনকে → ৭ম সংশোধনী বৈধতা দেয় ১৯৮২-৮৬ সামরিক শাসনকে
- ১৩তম তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু করে → ১৫তম তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে
- অনুচ্ছেদ ৭ক: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য (১৫তম সংশোধনী)
📌 জরুরি অবস্থা ও বিশেষ বিধান
সংবিধানের ভাগ ৯ক-তে (অনুচ্ছেদ ১৪১ক-১৪১গ) জরুরি অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে:
- অনুচ্ছেদ ১৪১ক: রাষ্ট্রপতি যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন
- অনুচ্ছেদ ১৪১খ: জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখা যায়
- অনুচ্ছেদ ১৪১গ: জরুরি অবস্থা ১২০ দিনের বেশি কার্যকর থাকলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন
- জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে)
- জরুরি অবস্থায় অনুচ্ছেদ ৩৬-৪০ এর অধিকার স্থগিত করা যায়
- জীবনের অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩২) কখনোই স্থগিত করা যায় না
- ২য় সংশোধনীতে (১৯৭৩) জরুরি অবস্থার বিধান সংযোজিত হয়
📌 গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ সমগ্র
BCS, Bank ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার যেসব অনুচ্ছেদ থেকে প্রশ্ন আসে — সবগুলো এক নজরে:
| অনুচ্ছেদ | বিষয় | পরীক্ষায় আসার মাত্রা |
|---|---|---|
| ১ | বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র | ⭐⭐⭐ |
| ২ | রাজধানী ঢাকা | ⭐ |
| ২ক | রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম (৮ম সংশোধনী) | ⭐⭐⭐ |
| ৩ | রাষ্ট্রভাষা বাংলা | ⭐⭐⭐ |
| ৪ | জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক | ⭐⭐ |
| ৪ক | জাতির পিতার প্রতিকৃতি (১৫তম সংশোধনী) | ⭐⭐ |
| ৭ | সংবিধান সর্বোচ্চ আইন; জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক | ⭐⭐⭐ |
| ৭ক | সংবিধানের মৌলিক বিধান অপরিবর্তনীয় (১৫তম সংশোধনী) | ⭐⭐⭐ |
| ৭খ | সংবিধান বাতিলে শাস্তি — রাষ্ট্রদ্রোহ | ⭐⭐ |
| ১১ | গণতন্ত্র ও মানবাধিকার | ⭐⭐ |
| ২৭ | আইনের দৃষ্টিতে সমতা | ⭐⭐⭐ |
| ৩৯ | চিন্তা, বিবেক ও বাক্-স্বাধীনতা | ⭐⭐⭐ |
| ৪৮ | রাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রের প্রধান, আনুষ্ঠানিক) | ⭐⭐⭐ |
| ৫৫ | মন্ত্রিসভা (প্রধানমন্ত্রীই প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী) | ⭐⭐⭐ |
| ৬৫ | জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠা | ⭐⭐⭐ |
| ৭০ | দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সদস্যপদ বাতিল (ফ্লোর ক্রসিং) | ⭐⭐⭐ |
| ৭৭ | ন্যায়পাল (Ombudsman) নিয়োগ | ⭐⭐ |
| ৯৪ | সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা (আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ) | ⭐⭐⭐ |
| ১০০ | হাইকোর্ট বিভাগের আসন ঢাকায় | ⭐⭐ |
| ১০২ | হাইকোর্টের রিট এখতিয়ার | ⭐⭐⭐ |
| ১৪২ | সংবিধান সংশোধন (দুই-তৃতীয়াংশ ভোট) | ⭐⭐⭐ |
| ১৫২ | সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা | ⭐ |
- সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংশোধনী বিল পাস হবে
- পাসের পর ৭ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পেশ করতে হবে
- রাষ্ট্রপতি ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন, না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মতি পেয়েছে বলে গণ্য
- তবে অনুচ্ছেদ ৭ক অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক কাঠামো (basic structure) পরিবর্তন করা যায় না
- সংবিধান দিবস — ৪ নভেম্বর
- সংবিধান কার্যকর — ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
- কমিটি সভাপতি — ড. কামাল হোসেন
- সংবিধানের ভাগ — ১১টি, অনুচ্ছেদ — ১৫৩টি, তফসিল — ৪টি
- সর্বোচ্চ আইন — অনুচ্ছেদ ৭
- সংশোধনের জন্য — দুই-তৃতীয়াংশ ভোট
- ফ্লোর ক্রসিং — অনুচ্ছেদ ৭০
- রাষ্ট্রভাষা বাংলা — অনুচ্ছেদ ৩
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম — অনুচ্ছেদ ২ক (৮ম সংশোধনী)