Courses/ General Knowledge/ Chapter 2
Chapter 02 of 10

বাংলাদেশের ভূগোল

ভৌগোলিক অবস্থান, সীমানা, নদ-নদী, পর্বত-পাহাড়, দ্বীপ, সুন্দরবন, জলবায়ু, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সমুদ্রসীমা

📖 ১০ সেকশন
১০ MCQ
⏱️ ~২০ মিনিট
📑 সূচিপত্র
  1. ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা
  2. প্রশাসনিক বিভাগ ও জেলা
  3. প্রধান নদ-নদী ও নদী ব্যবস্থা
  4. ভূপ্রকৃতি ও ভূমিরূপ
  5. পর্বত, পাহাড় ও উচ্চভূমি
  6. জলবায়ু ও ঋতু
  7. দ্বীপ, চর ও সমুদ্র সৈকত
  8. সুন্দরবন ও বনভূমি
  9. প্রাকৃতিক সম্পদ ও খনিজ
  10. সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক সম্পদ

📌 ১. ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত একটি দেশ। এটি ২০°৩৪' ~ ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' ~ ৯২°৪১' পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°২৬' উ.) বাংলাদেশের মাঝ বরাবর চলে গেছে।

১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি. (আয়তন)
বিভাগ
৬৪ জেলা
৭০০+ নদ-নদী

সীমানা বিবরণ:

দিক প্রতিবেশী সীমান্ত দৈর্ঘ্য ভারতীয় রাজ্য/দেশ
উত্তরে ভারত মেঘালয়, আসাম
পূর্বে ভারত ও মিয়ানমার ভারত ~২৮০ কি.মি., মিয়ানমার ~২৭১ কি.মি. ত্রিপুরা, মিজোরাম / মিয়ানমার
পশ্চিমে ভারত পশ্চিমবঙ্গ
দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর সমুদ্র উপকূল ৭১১ কি.মি.
💡 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য — সীমানা
  • ভারতের সাথে সীমান্ত: ৪,১৫৬ কি.মি. (সর্বাধিক সীমান্ত)
  • মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত: ২৭১ কি.মি.
  • সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য: ৭১১ কি.মি.
  • কর্কটক্রান্তি রেখা যেসব জেলার ওপর দিয়ে গেছে: নাটোর, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী, রাঙামাটি (পশ্চিম → পূর্ব)
  • ভারতের ৫টি রাজ্য সীমান্তে: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম
🧠 কর্কটক্রান্তি রেখার জেলা মনে রাখুন

"না-মা-ঢা-কু-ফে-রা"নাটোর → মানিকগঞ্জ → ঢাকা → কুমিল্লা → ফেনী → রাঙামাটি

📌 ২. প্রশাসনিক বিভাগ ও জেলা

বাংলাদেশে বর্তমানে ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা, ৪৯৫টি উপজেলা এবং ৪,৫৭১টি ইউনিয়ন রয়েছে। সর্বশেষ বিভাগ ময়মনসিংহ (২০১৫ সালে ঢাকা বিভাগ থেকে গঠিত)।

বিভাগ প্রতিষ্ঠা জেলা বৃহত্তম জেলা (আয়তন) বিশেষ তথ্য
ঢাকা ১৮২৯ ১৩ টাঙ্গাইল রাজধানী; সবচেয়ে ঘনবসতি
চট্টগ্রাম ১৮২৯ ১১ রাঙামাটি বাণিজ্যিক রাজধানী; বৃহত্তম জেলা এখানে
রাজশাহী ১৮২৯ রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চল; আমের রাজধানী
খুলনা ১৯৬০ ১০ খুলনা সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার
বরিশাল ১৯৯৩ বরিশাল সর্বকম জেলা; ভাসমান বাজার
সিলেট ১৯৯৫ সুনামগঞ্জ চা-বাগান; হাওর অঞ্চল
রংপুর ২০১০ দিনাজপুর মঙ্গা-প্রবণ অঞ্চল
ময়মনসিংহ ২০১৫ ময়মনসিংহ সর্বশেষ বিভাগ
🎯 BCS পরীক্ষায় বারবার আসে
  • আয়তনে বৃহত্তম জেলা: রাঙামাটি (৬,১১৬ বর্গ কি.মি.)
  • আয়তনে ক্ষুদ্রতম জেলা: নারায়ণগঞ্জ (৬৮৪ বর্গ কি.মি.)
  • জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা: ঢাকা
  • জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম জেলা: বান্দরবান
  • সর্বাধিক জেলা যে বিভাগে: ঢাকা (১৩টি)
  • সর্বকম জেলা যে বিভাগে: সিলেট ও ময়মনসিংহ (৪টি করে)
🧠 ৮ বিভাগ মনে রাখার কৌশল

"ঢা-চ-রা-খু-ব-সি-র-ম"ঢাকা → ট্টগ্রাম → রাজশাহী → খুলনা → রিশাল → সিলেট → ংপুর → য়মনসিংহ

📌 ৩. প্রধান নদ-নদী ও নদী ব্যবস্থা

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এখানে প্রায় ৭০০+ নদ-নদী রয়েছে যা তিনটি প্রধান নদী ব্যবস্থায় বিভক্ত: পদ্মা-গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং সুরমা-মেঘনা

নদী উৎপত্তি দৈর্ঘ্য (বাংলাদেশে) বাংলাদেশে প্রবেশ বিশেষত্ব
পদ্মা গঙ্গা → হিমালয় (গঙ্গোত্রী) ৩৬৬ কি.মি. রাজশাহী প্রধান নদী; যমুনার সাথে মিলিত
যমুনা ব্রহ্মপুত্র → তিব্বত ২৯২ কি.মি. কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী (অন্যমতে)
মেঘনা আসাম (ভারত) ৩৩০ কি.মি. সিলেট প্রশস্ততম নদী (ভোলায় ~১৩ কি.মি.)
সুরমা মণিপুর পাহাড় (ভারত) ২৪৯ কি.মি. সিলেট বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দীর্ঘতম (৩৯৯ কি.মি.)
কর্ণফুলী মিজোরাম (ভারত) ১৬১ কি.মি. পার্বত্য চট্টগ্রাম কাপ্তাই বাঁধ; চট্টগ্রাম বন্দর
তিস্তা সিকিম (ভারত) ১১৫ কি.মি. নীলফামারী উত্তরবঙ্গের প্রধান নদী

নদী সংগম (Confluence) — গুরুত্বপূর্ণ:

💡 নদী সম্পর্কে বারবার আসা তথ্য
  • আন্তর্জাতিক নদী: ৫৭টি (ভারত-বাংলাদেশ ৫৪টি, মিয়ানমার-বাংলাদেশ ৩টি)
  • পদ্মা সেতু: ৬.১৫ কি.মি. (বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু, ২০২২ উদ্বোধন)
  • বঙ্গবন্ধু সেতু: ৪.৮ কি.মি. (যমুনা নদীর ওপর, ১৯৯৮)
  • বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী: কর্ণফুলী
  • বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি হ্রদ: কাপ্তাই (কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ, ১৯৬২)
🔄 তুলনা — প্রধান ৩ নদী
  • পদ্মা: প্রধান নদী — সবচেয়ে বেশি পানি বহন করে (পলিবাহী)
  • মেঘনা: প্রশস্ততম — ভোলার কাছে সবচেয়ে চওড়া (~১৩ কি.মি.)
  • সুরমা: বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দীর্ঘতম — উৎস থেকে মোহনা ৩৯৯ কি.মি.

📌 ৪. ভূপ্রকৃতি ও ভূমিরূপ

বাংলাদেশ প্রধানত নিম্ন সমতলভূমি বিশিষ্ট দেশ। ভূতাত্ত্বিক গঠনের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:

ভূমিরূপ গঠনকাল অবস্থান বৈশিষ্ট্য
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় ~৬.৫ কোটি বছর আগে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ দেশের ~১২% ভূমি; সর্বোচ্চ উচ্চতা
প্লাইস্টোসিন যুগের সোপান ~২৫,০০০ বছর আগে মধুপুর গড়(টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ), বরেন্দ্র ভূমি (রাজশাহী-দিনাজপুর) দেশের ~৮% ভূমি; লালমাটি
সাম্প্রতিক যুগের প্লাবনসমভূমি ~১০,০০০ বছর আগে দেশের অধিকাংশ নিম্নভূমি দেশের ~৮০% ভূমি; পলি-গঠিত উর্বর
🎯 পরীক্ষায় ভূমিরূপ থেকে প্রশ্ন
  • মধুপুর গড়: টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়; শালবন বিখ্যাত; উচ্চতা ৬-৩০ মিটার
  • বরেন্দ্র ভূমি: রাজশাহী ও দিনাজপুর; বাংলাদেশের প্রাচীনতম ভূমি
  • লালমাই পাহাড়: কুমিল্লায় অবস্থিত; প্লাইস্টোসিন যুগের
  • প্লাবনসমভূমি: দেশের ৮০% — কৃষির জন্য সবচেয়ে উপযোগী

📌 ৫. পর্বত, পাহাড় ও উচ্চভূমি

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম) এবং উত্তর-পূর্বে (সিলেট) পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে। এগুলো ভারত-মিয়ানমার পর্বতমালার অংশ।

শৃঙ্গ/পাহাড় উচ্চতা অবস্থান বিশেষ তথ্য
তাজিংডং (বিজয়) ১,২৩১ মি. বান্দরবান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ
কেওক্রাডং ১,২৩০ মি. বান্দরবান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (পূর্বে সর্বোচ্চ মনে করা হতো)
মোদক মুয়াল (সাকা হাফং) ১,০৫২ মি. বান্দরবান তৃতীয় সর্বোচ্চ
চিম্বুক পাহাড় ~৭১৫ মি. বান্দরবান পর্যটন কেন্দ্র; "বাংলার দার্জিলিং"
গারো পাহাড় ময়মনসিংহ/শেরপুর গারো উপজাতির আবাসস্থল
লালমাই পাহাড় ~২১ মি. কুমিল্লা প্লাইস্টোসিন যুগের; সমতল ভূমিতে অবস্থিত
💡 পার্বত্য চট্টগ্রাম — তিন জেলা
  • রাঙামাটি: বৃহত্তম জেলা; কাপ্তাই লেক; চাকমা রাজা
  • বান্দরবান: সর্বোচ্চ শৃঙ্গ; বগালেক, নীলগিরি
  • খাগড়াছড়ি: আলুটিলা গুহা; মং রাজা
🧠 উচ্চতা অনুসারে ৩ শৃঙ্গ

"তা-কে-মো"তাজিংডং (১,২৩১ মি.) → কেওক্রাডং (১,২৩০ মি.) → মোদক মুয়াল (১,০৫২ মি.)

📌 ৬. জলবায়ু ও ঋতু

বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী (Tropical Monsoon)। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়।

ঋতু সময়কাল বৈশিষ্ট্য
গ্রীষ্ম মার্চ – মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা; কালবৈশাখী ঝড়; নর'ওয়েস্টার
বর্ষা জুন – অক্টোবর সর্বাধিক বৃষ্টি; দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু; বন্যা
শরৎ আগস্ট – সেপ্টেম্বর (ব্যাপ্তি) বর্ষা-পরবর্তী; মেঘ-রোদের মিশ্রণ
হেমন্ত অক্টোবর – নভেম্বর ফসল কাটার মৌসুম; শিশির
শীত ডিসেম্বর – ফেব্রুয়ারি সর্বনিম্ন তাপ; উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু; শুষ্ক
বসন্ত ফেব্রুয়ারি – মার্চ মৃদু আবহাওয়া; ফুল ফোটার সময়
💡 জলবায়ু — পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ
  • বার্ষিক গড় তাপমাত্রা: ২৫°সে.
  • সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (রেকর্ড): ৪৫.১°সে. — রাজশাহী (এপ্রিল, ১৯৭২)
  • সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (রেকর্ড): ২.৮°সে. — শ্রীমঙ্গল (জানুয়ারি, ১৯৬৮)
  • সর্বাধিক বৃষ্টিপাত: সিলেটের লালখান (~৫,৮৫৮ মি.মি.)
  • সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত: নাটোরের লালপুর
  • বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত: ২,০৩০ মি.মি.
🔄 তুলনা — চরম তাপমাত্রার স্থান
  • সবচেয়ে উষ্ণ: রাজশাহী (গ্রীষ্মে ৪০°+ সে.) — বরেন্দ্র এলাকা, শুষ্ক
  • সবচেয়ে শীতল: শ্রীমঙ্গল (শীতে ৫°-৮° সে.) — চা বাগান, উপত্যকা
  • সবচেয়ে আর্দ্র: সিলেট — সর্বাধিক বৃষ্টিপাত, হাওর অঞ্চল
  • সবচেয়ে শুষ্ক: রাজশাহীর পশ্চিমাংশ — খরা-প্রবণ

📌 ৭. দ্বীপ, চর ও সমুদ্র সৈকত

বঙ্গোপসাগরের তীরে বাংলাদেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ ও সমুদ্র সৈকত রয়েছে যা ভূগোলে এবং পরীক্ষায় বারবার আসে।

দ্বীপ/সৈকত অবস্থান বিশেষত্ব
সেন্ট মার্টিন কক্সবাজার (টেকনাফ) বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ; স্থানীয় নাম "নারিকেল জিঞ্জিরা"
কক্সবাজার সৈকত কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত (১২০ কি.মি.)
সোনাদিয়া দ্বীপ কক্সবাজার পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল
হাতিয়া দ্বীপ নোয়াখালী বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ
ভোলা বরিশাল বিভাগ বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা
সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রাচীনতম দ্বীপ; বহু ঐতিহাসিক তথ্য
মহেশখালী কক্সবাজার বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ
কুয়াকাটা পটুয়াখালী "সাগরকন্যা"; সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একসাথে দেখা যায়
নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী (হাতিয়া) চিত্রা হরিণের আবাসস্থল; জাতীয় উদ্যান
🎯 দ্বীপ সম্পর্কে পরীক্ষার প্রিয় তথ্য
  • একমাত্র প্রবাল দ্বীপ: সেন্ট মার্টিন
  • একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ: মহেশখালী
  • বৃহত্তম দ্বীপ: হাতিয়া (ভোলা জেলা-দ্বীপ আলাদা)
  • সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একসাথে: কুয়াকাটা, পটুয়াখালী
  • পরিযায়ী পাখি: সোনাদিয়া দ্বীপ
  • দীর্ঘতম সৈকত: কক্সবাজার (১২০ কি.মি.)
🧠 দ্বীপের "একমাত্র" তথ্য মনে রাখুন

"সেন্ট = প্রবাল, মহেশ = পাহাড়, কুয়া = দুই সূর্য" → সেন্ট মার্টিন = একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, মহেশখালী = একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ, কুয়াকাটা = সূর্যোদয় + সূর্যাস্ত

📌 ৮. সুন্দরবন ও বনভূমি

সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিস্তৃত। বাংলাদেশের অংশ ৬,০১৭ বর্গ কি.মি. (মোট সুন্দরবনের প্রায় ৬২%)। এটি ১৯৯৭ সালে UNESCO World Heritage Site হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

৬,০১৭ বর্গ কি.মি. (বাংলাদেশ অংশ)
১৯৯৭ UNESCO স্বীকৃতি
~৪৫০ রয়েল বেঙ্গল টাইগার
১৭.৫% দেশের মোট বনভূমি

সুন্দরবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

বাংলাদেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বনভূমি:

বনভূমি অবস্থান বৈশিষ্ট্য
মধুপুর শালবন টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ পর্ণমোচী বন; শালগাছ প্রধান
ভাওয়াল গড় গাজীপুর শালবন; জাতীয় উদ্যান
পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চল রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি চিরহরিৎ ও ক্রান্তীয় বন; বাঁশ-বেত প্রচুর
লাউয়াছড়া মৌলভীবাজার জাতীয় উদ্যান; উল্লুকের আবাস
রাতারগুল সিলেট বাংলাদেশের একমাত্র জলাভূমি বন (Swamp Forest)
💡 বনভূমি — মনে রাখুন
  • বাংলাদেশে মোট বনভূমি: ~১৭.৫% (সরকারি দাবি; প্রকৃত ~১১%)
  • সবচেয়ে বড় বনভূমি: সুন্দরবন
  • একমাত্র জলাভূমি বন: রাতারগুল, সিলেট
  • একমাত্র প্রবাল দ্বীপে বন: সেন্ট মার্টিন

📌 ৯. প্রাকৃতিক সম্পদ ও খনিজ

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলাসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়। তবে প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ।

খনিজ সম্পদ অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
প্রাকৃতিক গ্যাস সিলেট, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভোলা, নেত্রকোণা প্রথম আবিষ্কার: ১৯৫৫ (হরিপুর, সিলেট); বৃহত্তম ক্ষেত্র: তিতাস (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
কয়লা দিনাজপুর (বড়পুকুরিয়া), জামালগঞ্জ (জয়পুরহাট) বড়পুকুরিয়া — একমাত্র চালু কয়লাখনি; বৃহত্তম মজুদ: জামালগঞ্জ
চুনাপাথর সিলেট (ভাঙ্গেরচর, টাকেরঘাট) সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহৃত
কঠিন শিলা দিনাজপুর (মধ্যপাড়া) একমাত্র কঠিন শিলা খনি
পিট কয়লা খুলনা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ জৈব জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার্য
সিলিকা বালি হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার কাচ তৈরিতে ব্যবহৃত
চীনামাটি নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ সিরামিক শিল্পে ব্যবহৃত
🎯 খনিজ সম্পদ — BCS/Bank পরীক্ষার জন্য
  • প্রথম গ্যাসক্ষেত্র: হরিপুর, সিলেট (১৯৫৫)
  • বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র: তিতাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • সর্বশেষ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র: ভোলা নর্থ (সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয়)
  • একমাত্র কয়লা খনি (চালু): বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
  • বাংলাদেশে মোট গ্যাসক্ষেত্র: ২৭+ আবিষ্কৃত
🧠 গ্যাসক্ষেত্র মনে রাখুন — "হরিপুর প্রথম, তিতাস বড়"

হরিপুর = প্রথম আবিষ্কৃত (১৯৫৫) | তিতাস = বৃহত্তম | বিবিয়ানা = সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারী (সিলেট)

📌 ১০. সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক সম্পদ

বাংলাদেশ দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। ২০১২ সালে মিয়ানমারের সাথে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ১,১৮,৮১৩ বর্গ কি.মি. সমুদ্র এলাকার ওপর সার্বভৌমত্ব পেয়েছে।

সমুদ্রসীমা ভেদ (UNCLOS অনুযায়ী):

💡 সমুদ্র বিজয় — মাইলফলক
  • বাংলাদেশ vs মিয়ানমার (২০১২): ITLOS (Hamburg) — বাংলাদেশ জয়ী
  • বাংলাদেশ vs ভারত (২০১৪): PCA (The Hague) — বাংলাদেশ জয়ী
  • মোট অর্জিত সমুদ্র এলাকা: ১,১৮,৮১৩ বর্গ কি.মি.
  • সম্ভাবনা: গভীর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান (Blue Economy)

সামুদ্রিক সম্পদ:

🔄 সমুদ্র মামলা তুলনা
  • vs মিয়ানমার (২০১২): আদালত — ITLOS; স্থান — হামবুর্গ, জার্মানি
  • vs ভারত (২০১৪): আদালত — PCA; স্থান — দ্য হেগ, নেদারল্যান্ডস
  • উভয় মামলাতেই বাংলাদেশ EEZ ও মহীসোপানের অধিকার পেয়েছে
আপনার স্কোর 0/10
✅ Quick Check
১০টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অধ্যায়টি ঠিকমতো বুঝেছেন কিনা যাচাই করুন
১. বাংলাদেশে মোট বিভাগ কতটি?
💡 বাংলাদেশে বর্তমানে ৮টি বিভাগ রয়েছে। সর্বশেষ ময়মনসিংহ বিভাগ (২০১৫)।
২. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
💡 তাজিংডং (বিজয়) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ (১,২৩১ মিটার), বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।
৩. বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা (আয়তনে) কোনটি?
💡 আয়তনে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা রাঙামাটি (৬,১১৬ বর্গ কি.মি.)।
৪. বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ কোনটি?
💡 সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এটি কক্সবাজারের টেকনাফ থানার অন্তর্গত।
৫. বাংলাদেশের প্রশস্ততম নদী কোনটি?
💡 মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ত নদী। ভোলার কাছে এর প্রস্থ প্রায় ১৩ কি.মি.।
৬. বাংলাদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কোথায় রেকর্ড করা হয়েছে?
💡 বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫.১°সে. রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয় (এপ্রিল, ১৯৭২)।
৭. প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র কোনটি?
💡 বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র হরিপুর, সিলেট (১৯৫৫ সালে)।
৮. সুন্দরবন কত সালে UNESCO World Heritage স্বীকৃতি পায়?
💡 সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে UNESCO World Heritage Site হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
৯. বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ কোনটি?
💡 মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত।
১০. ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত দৈর্ঘ্য কত?
💡 ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ৪,১৫৬ কি.মি.। এটি বিশ্বের ৫ম দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত।
← Previous: বাংলাদেশের ইতিহাস Next: বাংলাদেশের সংবিধান →