📌 সরকার ব্যবস্থার ধরন ও ক্ষমতা পৃথকীকরণ
বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু আছে (সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি শাসন ও দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরত)।
সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে — প্রতিটি স্বতন্ত্র, তবে পরস্পর নিয়ন্ত্রিত (Checks and Balances):
| বিভাগ | প্রধান | দায়িত্ব | সাংবিধানিক ভিত্তি |
|---|---|---|---|
| নির্বাহী বিভাগ | প্রধানমন্ত্রী (প্রকৃত), রাষ্ট্রপতি (আনুষ্ঠানিক) | আইন বাস্তবায়ন ও প্রশাসন পরিচালনা | ৪র্থ ভাগ (৪৮–৫৮) |
| আইন বিভাগ | স্পিকার (সংসদে) | আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন | ৫ম ভাগ (৬৫–৯৩) |
| বিচার বিভাগ | প্রধান বিচারপতি | বিচার, সংবিধান ব্যাখ্যা, মৌলিক অধিকার রক্ষা | ৬ষ্ঠ ভাগ (৯৪–১১৭) |
| বিষয় | সংসদীয় (বাংলাদেশ) | রাষ্ট্রপতি শাসিত (যেমন: USA) |
|---|---|---|
| সরকার প্রধান | প্রধানমন্ত্রী | রাষ্ট্রপতি |
| রাষ্ট্র প্রধান | রাষ্ট্রপতি (আনুষ্ঠানিক) | রাষ্ট্রপতি (প্রকৃত) |
| দায়বদ্ধতা | সংসদের কাছে | জনগণের কাছে |
| অনাস্থা ভোট | প্রযোজ্য | প্রযোজ্য নয় |
| ক্ষমতা পৃথকীকরণ | আংশিক | সম্পূর্ণ |
"স-দা-অ-যৌ" → সংসদে দায়বদ্ধ, দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর, অনাস্থা ভোটে পতন, যৌথ দায়িত্ব মন্ত্রিসভার
📌 রাষ্ট্রপতি ও জরুরি অবস্থা
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান (Head of State)। তিনি জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। মেয়াদ: ৫ বছর (সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ)। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন (অনুচ্ছেদ ৪৮(৩))।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নির্বাচন পদ্ধতি | সংসদ সদস্যদের ভোটে (পরোক্ষ নির্বাচন) |
| যোগ্যতা | ন্যূনতম ৩৫ বছর বয়স, সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য |
| মেয়াদ | ৫ বছর, সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ |
| শপথ | স্পিকারের কাছে |
| অভিশংসন | সংসদের ২/৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (অনুচ্ছেদ ৫৪) |
| প্রধান অনুচ্ছেদ | ৪৮ (রাষ্ট্রপতি), ৪৯ (ক্ষমা প্রদর্শন), ৫০ (মেয়াদ) |
- প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ: সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে (অনুচ্ছেদ ৫৬(৩))
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ: নিজ বিবেচনায় (অনুচ্ছেদ ৯৫)
- ক্ষমা প্রদর্শন: দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস (অনুচ্ছেদ ৪৯)
- সংসদ ভেঙে দেওয়া: প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে
- অধ্যাদেশ জারি: সংসদ ভেঙে গেলে (অনুচ্ছেদ ৯৩)
- জরুরি অবস্থা ঘোষণা: অনুচ্ছেদ ১৪১ক (যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ, অভ্যন্তরীণ গোলযোগ)
- "রাষ্ট্রপতি কার পরামর্শে কাজ করেন?" — প্রধানমন্ত্রীর (তবে ২টি ব্যতিক্রম: PM ও CJ নিয়োগ)
- "রাষ্ট্রপতি কোথায় শপথ নেন?" — স্পিকারের কাছে
- "অভিশংসনে কত ভোট লাগে?" — দুই-তৃতীয়াংশ
📌 প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা
প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রকৃত প্রধান (Head of Government)। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রধানমন্ত্রী শপথ নেন রাষ্ট্রপতির কাছে।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি
- মন্ত্রিসভা গঠন ও মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন
- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণ
- সংসদে সরকারের নেতা হিসেবে কাজ
- সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব (কার্যত)
- রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদান
| অনুচ্ছেদ | বিষয় | মূল কথা |
|---|---|---|
| ৫৫(১) | মন্ত্রিসভা | PM-এর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে |
| ৫৫(৩) | যৌথ দায়িত্ব | মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে যৌথভাবে দায়ী |
| ৫৬(২) | PM নিয়োগ | সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি PM নিয়োগ দেন |
| ৫৬(৩) | অন্যান্য মন্ত্রী | PM-এর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন |
| ৫৭ | মেয়াদ | সংসদের আস্থা থাকা পর্যন্ত |
| ৫৮ | মন্ত্রীদের ক্ষমতা | রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন |
- মোট মন্ত্রী সংখ্যা: সংসদ সদস্যের ১/১০ এর বেশি হবে না (সাধারণত)
- সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিও মন্ত্রী হতে পারেন — তবে ৬ মাসের মধ্যে সংসদ সদস্য হতে হবে
- মন্ত্রিসভা শপথ: রাষ্ট্রপতির কাছে
- যৌথ দায়িত্ব (Collective Responsibility): মন্ত্রিসভা একসাথে দায়ী
"রা-স্পি, বাকি-রা" → রাষ্ট্রপতি শপথ নেন স্পিকারের কাছে; বাকি সবাই (PM, মন্ত্রী, স্পিকার) শপথ নেন রাষ্ট্রপতির কাছে
📌 জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন
বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) — এটি এককক্ষবিশিষ্ট (Unicameral)। সংসদ ভবন ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত। স্থপতি: আমেরিকান স্থপতি লুই আই কান (Louis I. Kahn)। নির্মাণকাল: ১৯৬১–১৯৮২।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মোট আসন | ৩৫০ (৩০০ সাধারণ + ৫০ সংরক্ষিত মহিলা) |
| সংসদের মেয়াদ | ৫ বছর (প্রথম বৈঠক থেকে) |
| ভোটার বয়স | ১৮ বছর |
| প্রার্থী বয়স | ২৫ বছর |
| কোরাম | ৬০ জন সদস্য (মোটের ১/৫) |
| সভাপতি | স্পিকার (অনুচ্ছেদ ৭৪) |
| ডেপুটি স্পিকার | অনুচ্ছেদ ৭৪ |
| সংসদীয় স্থায়ী কমিটি | প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা |
| হুইপ (Whip) | দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষাকারী |
আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া
- বিল উত্থাপন: সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী কর্তৃক বিল পেশ
- প্রথম পাঠ: বিলের শিরোনাম ও উদ্দেশ্য পাঠ
- কমিটি পর্যায়: স্থায়ী কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে
- দ্বিতীয় পাঠ: বিস্তারিত আলোচনা ও সংশোধনী
- তৃতীয় পাঠ: চূড়ান্ত ভোটে গৃহীত
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি: ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি দিতে হবে (অনুচ্ছেদ ৮০)
- অর্থ বিল: শুধুমাত্র সরকারি পক্ষ থেকে উত্থাপন করা যায়, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন প্রয়োজন
- সাধারণ বিল: যেকোনো সদস্য উত্থাপন করতে পারেন
- সংবিধান সংশোধন বিল: সংসদের ২/৩ ভোটে পাস হতে হবে (অনুচ্ছেদ ১৪২)
কোনো সংসদ সদস্য তাঁর দলের বিপক্ষে ভোট দিলে বা ভোটদানে বিরত থাকলে তাঁর আসন শূন্য হবে। এটি বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থার অন্যতম বিতর্কিত ধারা।
- "সংসদের কোরাম কত?" — ৬০ জন সদস্য
- "সংবিধান সংশোধনে কত সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে?" — দুই-তৃতীয়াংশ
- "সংসদ ভবনের স্থপতি?" — লুই আই কান
- "অনুচ্ছেদ ৭০ কী?" — দলত্যাগ বিরোধী বিধান
📌 বিচার বিভাগ ও রিট
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (অনুচ্ছেদ ৯৪)। এটি দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত:
- আপিল বিভাগ (Appellate Division): প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতি — হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শোনেন
- হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division): মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনে রিট জারি করেন (অনুচ্ছেদ ১০২)
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রধান বিচারপতি নিয়োগ | রাষ্ট্রপতি কর্তৃক |
| অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ | রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতির পরামর্শে |
| যোগ্যতা | কমপক্ষে ১০ বছর আইন পেশায় বা বিচার বিভাগে অভিজ্ঞতা |
| অবসরের বয়স | ৬৭ বছর |
| অপসারণ | সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে |
| প্রধান অনুচ্ছেদ | ৯৪ (প্রতিষ্ঠা), ৯৫ (নিয়োগ), ৯৬ (অপসারণ), ১০২ (রিট) |
📎 ৫ প্রকার রিট (Writ) — অনুচ্ছেদ ১০২
হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার রক্ষায় ৫ ধরনের রিট জারি করতে পারে:
| রিটের নাম | অর্থ | কাজ | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus) | "দেহ উপস্থিত করো" | বেআইনি আটক থেকে মুক্তি | পুলিশ কাউকে অবৈধভাবে আটকে রাখলে |
| ম্যান্ডামাস (Mandamus) | "আমরা আদেশ করি" | সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা | সরকারি দপ্তর কাজ না করলে |
| প্রহিবিশন (Prohibition) | "নিষেধ" | নিম্ন আদালতকে এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ থেকে বিরত রাখা | নিম্ন আদালত ক্ষমতার বাইরে গেলে |
| সার্শিওরারি (Certiorari) | "নিশ্চিত করো" | নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তলব | ত্রুটিপূর্ণ আদেশ বাতিল করা |
| কো-ওয়ারেন্টো (Quo Warranto) | "কোন অধিকারে?" | কেউ অবৈধভাবে সরকারি পদ দখল করলে জবাবদিহি | অযোগ্য ব্যক্তি পদে থাকলে |
"হে-ম্যান-প্রো-সার-কো" → হেবিয়াস কর্পাস (দেহ), ম্যানডামাস (আদেশ), প্রোহিবিশন (নিষেধ), সারশিওরারি (তলব), কো-ওয়ারেন্টো (কোন অধিকারে)
📎 আদালতের স্তরবিন্যাস
| স্তর | আদালত | বিবরণ |
|---|---|---|
| সর্বোচ্চ | সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) | চূড়ান্ত আপিল আদালত |
| ২য় | সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) | রিট, আপিল, মূল এখতিয়ার |
| ৩য় | জেলা ও দায়রা জজ আদালত | দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা |
| ৪র্থ | ম্যাজিস্ট্রেট আদালত / সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট জজ | ছোট মূল্যমানের মামলা |
| বিশেষ | প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, শ্রম আদালত, পরিবেশ আদালত | নির্দিষ্ট বিষয়ে বিচার |
📌 নির্বাচন কমিশন
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (অনুচ্ছেদ ১১৮)। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে নিয়োজিত।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গঠন | প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার (সর্বোচ্চ ৫ জন) |
| নিয়োগ | রাষ্ট্রপতি কর্তৃক |
| মেয়াদ | ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স — যেটি আগে হয় |
| অনুচ্ছেদ | ১১৮ (গঠন), ১১৯ (দায়িত্ব), ১২০ (কর্মকর্তা) |
| প্রধান দায়িত্ব | ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনী এলাকা সীমানা নির্ধারণ |
- ভোটাধিকার বয়স: ১৮ বছর (অনুচ্ছেদ ১২২)
- প্রতীক বরাদ্দ: নির্বাচন কমিশন করে
- নির্বাচনকালীন সরকার: বর্তমানে দায়িত্বশীল সরকারের অধীনে (তত্ত্বাবধায়ক বাতিল — পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১)
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): নির্বাচন কমিশন প্রদান করে
📌 সাংবিধানিক পদধারী
সংবিধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদের উল্লেখ রয়েছে যা সরাসরি সাংবিধানিক মর্যাদা বহন করে:
| পদ | নিয়োগকর্তা | অনুচ্ছেদ | বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|---|
| রাষ্ট্রপতি | সংসদ সদস্যদের ভোটে | ৪৮ | রাষ্ট্রের প্রধান |
| প্রধানমন্ত্রী | রাষ্ট্রপতি | ৫৬ | সরকার প্রধান |
| স্পিকার | সংসদ সদস্যদের ভোটে | ৭৪ | সংসদের সভাপতি |
| প্রধান বিচারপতি | রাষ্ট্রপতি | ৯৫ | বিচার বিভাগের প্রধান |
| প্রধান নির্বাচন কমিশনার | রাষ্ট্রপতি | ১১৮ | নির্বাচন কমিশনের প্রধান |
| মহা হিসাব-নিরীক্ষক (CAG) | রাষ্ট্রপতি | ১২৭ | সরকারি হিসাব নিরীক্ষা |
| অ্যাটর্নি জেনারেল | রাষ্ট্রপতি | ৬৪ | সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা |
| সরকারি কর্ম কমিশন (PSC) চেয়ারম্যান | রাষ্ট্রপতি | ১৩৭ | সরকারি নিয়োগ তদারকি |
"প্রধান-প্রধান-এ-মহা-পি" → প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, এটর্নি জেনারেল, মহা হিসাব-নিরীক্ষক, পিএসসি চেয়ারম্যান + নির্বাচন কমিশনার
📌 স্থানীয় সরকার
সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়। প্রতিটি প্রশাসনিক একক জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত।
| পর্যায় | গ্রামীণ এলাকা | শহর এলাকা | প্রধান |
|---|---|---|---|
| নিম্ন | ইউনিয়ন পরিষদ | পৌরসভা | চেয়ারম্যান / মেয়র |
| মধ্য | উপজেলা পরিষদ | সিটি কর্পোরেশন | চেয়ারম্যান / মেয়র |
| উচ্চ | জেলা পরিষদ | — | চেয়ারম্যান |
- ইউনিয়ন পরিষদ: ১ চেয়ারম্যান + ৯ সাধারণ সদস্য + ৩ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য = মোট ১৩ জন
- উপজেলা পরিষদ: চেয়ারম্যান + ২ ভাইস চেয়ারম্যান (১ জন মহিলা)
- সিটি কর্পোরেশন: বর্তমানে ১২টি (ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ)
- বিভাগ: ৮টি (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ)
- জেলা: ৬৪টি, উপজেলা: ৪৯৫টি, ইউনিয়ন: ৪,৫৭১টি (প্রায়)
"ঢা-চ-রা-খু-সি-ব-র-ম" → ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ
📌 গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ একনজরে
BCS ও Bank পরীক্ষায় অনুচ্ছেদ নম্বর থেকে বারবার প্রশ্ন আসে। সরকার ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদসমূহ:
| অনুচ্ছেদ | বিষয় | মূল কথা |
|---|---|---|
| ৪৮ | রাষ্ট্রপতি | রাষ্ট্রপ্রধান, PM-এর পরামর্শে কাজ |
| ৪৯ | ক্ষমা প্রদর্শন | রাষ্ট্রপতি দণ্ড মওকুফ করতে পারেন |
| ৫৪ | অভিশংসন | সংসদের ২/৩ ভোটে রাষ্ট্রপতি অপসারণ |
| ৫৫ | মন্ত্রিসভা | PM-এর নেতৃত্বে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ |
| ৫৬ | PM নিয়োগ | সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা |
| ৫৯ | স্থানীয় সরকার | নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত |
| ৬৪ | অ্যাটর্নি জেনারেল | সরকারের প্রধান আইন উপদেষ্টা |
| ৬৫ | সংসদ প্রতিষ্ঠা | জাতীয় সংসদ নামে একটি আইনসভা |
| ৭০ | দলত্যাগ | দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে আসন শূন্য |
| ৭৪ | স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার | সংসদের সভাপতি |
| ৮০ | বিলে সম্মতি | রাষ্ট্রপতি ১৫ দিনে সম্মতি দেবেন |
| ৯৩ | অধ্যাদেশ জারি | সংসদ না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন |
| ৯৪ | সুপ্রিম কোর্ট | আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে গঠিত |
| ৯৫ | বিচারপতি নিয়োগ | রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ |
| ১০২ | রিট এখতিয়ার | হাইকোর্ট ৫ প্রকার রিট জারি করতে পারে |
| ১১৮ | নির্বাচন কমিশন | স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা |
| ১২৭ | CAG | মহা হিসাব-নিরীক্ষক |
| ১৩৭ | PSC | সরকারি কর্ম কমিশন |
| ১৪১ক | জরুরি অবস্থা | রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন |
| ১৪২ | সংবিধান সংশোধন | সংসদের ২/৩ ভোটে সংশোধন |
📌 পরীক্ষার কৌশল ও বারবার আসা প্রশ্ন
- ৫ প্রকার রিট: প্রায় প্রতিটি BCS-এ আসে — নাম, অর্থ ও প্রয়োগ মুখস্থ রাখুন
- অনুচ্ছেদ নম্বর: ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৭০, ৯৩, ৯৪, ১০২, ১১৮, ১৪২ — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
- সংখ্যা মনে রাখুন: ৩৫০ আসন, ৬০ কোরাম, ৬৭ অবসর বয়স, ৩৫ রাষ্ট্রপতির যোগ্যতা বয়স
- শপথ কার কাছে: শুধু রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে — বাকি সবাই রাষ্ট্রপতির কাছে
- নিয়োগ কে দেন: রাষ্ট্রপতি (PM, CJ, AG, CAG, CEC, PSC Chairman)
- "রাষ্ট্র প্রধান" vs "সরকার প্রধান": রাষ্ট্রপতি ≠ প্রধানমন্ত্রী — রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিক, PM প্রকৃত
- "সংসদীয়" vs "রাষ্ট্রপতি শাসিত": ১৯৯১ থেকে সংসদীয়, ৪র্থ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি ছিল
- "রিট" vs "আপিল": রিট = মৌলিক অধিকার রক্ষায়; আপিল = রায়ের বিরুদ্ধে
- "সংবিধান সংশোধন" vs "সাধারণ আইন": সংশোধনী ২/৩, সাধারণ আইন সংখ্যাগরিষ্ঠতায়
- "CEC মেয়াদ" vs "বিচারপতি অবসর": CEC ৫ বছর/৬৫ বয়স; বিচারপতি ৬৭ বয়স
১৮ = ভোটার বয়স | ২৫ = প্রার্থী বয়স | ৩৫ = রাষ্ট্রপতি যোগ্যতা | ৬০ = কোরাম | ৬৫ = CEC অবসর | ৬৭ = বিচারপতি অবসর | ৩০০ = সাধারণ আসন | ৫০ = সংরক্ষিত আসন | ৩৫০ = মোট আসন | ২/৩ = সংশোধন ও অভিশংসন