Courses/ General Knowledge/ Chapter 4
Chapter 04 of 10

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার

📑 বিষয়সূচি
  1. সরকার ব্যবস্থার ধরন ও ক্ষমতা পৃথকীকরণ
  2. রাষ্ট্রপতি ও জরুরি অবস্থা
  3. প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা
  4. জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন
  5. বিচার বিভাগ ও রিট
  6. নির্বাচন কমিশন
  7. সাংবিধানিক পদধারী
  8. স্থানীয় সরকার
  9. গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ একনজরে
  10. পরীক্ষার কৌশল

📌 সরকার ব্যবস্থার ধরন ও ক্ষমতা পৃথকীকরণ

বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু আছে (সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতি শাসন ও দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরত)।

সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে — প্রতিটি স্বতন্ত্র, তবে পরস্পর নিয়ন্ত্রিত (Checks and Balances):

বিভাগপ্রধানদায়িত্বসাংবিধানিক ভিত্তি
নির্বাহী বিভাগপ্রধানমন্ত্রী (প্রকৃত), রাষ্ট্রপতি (আনুষ্ঠানিক)আইন বাস্তবায়ন ও প্রশাসন পরিচালনা৪র্থ ভাগ (৪৮–৫৮)
আইন বিভাগস্পিকার (সংসদে)আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন৫ম ভাগ (৬৫–৯৩)
বিচার বিভাগপ্রধান বিচারপতিবিচার, সংবিধান ব্যাখ্যা, মৌলিক অধিকার রক্ষা৬ষ্ঠ ভাগ (৯৪–১১৭)
⚖️ সংসদীয় vs রাষ্ট্রপতি শাসন — তুলনা
বিষয়সংসদীয় (বাংলাদেশ)রাষ্ট্রপতি শাসিত (যেমন: USA)
সরকার প্রধানপ্রধানমন্ত্রীরাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্র প্রধানরাষ্ট্রপতি (আনুষ্ঠানিক)রাষ্ট্রপতি (প্রকৃত)
দায়বদ্ধতাসংসদের কাছেজনগণের কাছে
অনাস্থা ভোটপ্রযোজ্যপ্রযোজ্য নয়
ক্ষমতা পৃথকীকরণআংশিকসম্পূর্ণ
🧠 মনে রাখার কৌশল — সংসদীয় ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য

"স-দা-অ-যৌ"ংসদে দায়বদ্ধ, দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর, নাস্থা ভোটে পতন, যৌথ দায়িত্ব মন্ত্রিসভার

📌 রাষ্ট্রপতি ও জরুরি অবস্থা

রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান (Head of State)। তিনি জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। মেয়াদ: ৫ বছর (সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ)। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন (অনুচ্ছেদ ৪৮(৩))।

বিষয়তথ্য
নির্বাচন পদ্ধতিসংসদ সদস্যদের ভোটে (পরোক্ষ নির্বাচন)
যোগ্যতান্যূনতম ৩৫ বছর বয়স, সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য
মেয়াদ৫ বছর, সর্বোচ্চ ২ মেয়াদ
শপথস্পিকারের কাছে
অভিশংসনসংসদের ২/৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় (অনুচ্ছেদ ৫৪)
প্রধান অনুচ্ছেদ৪৮ (রাষ্ট্রপতি), ৪৯ (ক্ষমা প্রদর্শন), ৫০ (মেয়াদ)
💡 রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতা
  • প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ: সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে (অনুচ্ছেদ ৫৬(৩))
  • প্রধান বিচারপতি নিয়োগ: নিজ বিবেচনায় (অনুচ্ছেদ ৯৫)
  • ক্ষমা প্রদর্শন: দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস (অনুচ্ছেদ ৪৯)
  • সংসদ ভেঙে দেওয়া: প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে
  • অধ্যাদেশ জারি: সংসদ ভেঙে গেলে (অনুচ্ছেদ ৯৩)
  • জরুরি অবস্থা ঘোষণা: অনুচ্ছেদ ১৪১ক (যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ, অভ্যন্তরীণ গোলযোগ)
🎯 পরীক্ষায় যেভাবে আসে
  • "রাষ্ট্রপতি কার পরামর্শে কাজ করেন?" — প্রধানমন্ত্রীর (তবে ২টি ব্যতিক্রম: PM ও CJ নিয়োগ)
  • "রাষ্ট্রপতি কোথায় শপথ নেন?" — স্পিকারের কাছে
  • "অভিশংসনে কত ভোট লাগে?" — দুই-তৃতীয়াংশ

📌 প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা

প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রকৃত প্রধান (Head of Government)। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রধানমন্ত্রী শপথ নেন রাষ্ট্রপতির কাছে

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি

অনুচ্ছেদবিষয়মূল কথা
৫৫(১)মন্ত্রিসভাPM-এর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে
৫৫(৩)যৌথ দায়িত্বমন্ত্রিসভা সংসদের কাছে যৌথভাবে দায়ী
৫৬(২)PM নিয়োগসংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি PM নিয়োগ দেন
৫৬(৩)অন্যান্য মন্ত্রীPM-এর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন
৫৭মেয়াদসংসদের আস্থা থাকা পর্যন্ত
৫৮মন্ত্রীদের ক্ষমতারাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন
💡 মন্ত্রিসভার গঠন
  • মোট মন্ত্রী সংখ্যা: সংসদ সদস্যের ১/১০ এর বেশি হবে না (সাধারণত)
  • সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিও মন্ত্রী হতে পারেন — তবে ৬ মাসের মধ্যে সংসদ সদস্য হতে হবে
  • মন্ত্রিসভা শপথ: রাষ্ট্রপতির কাছে
  • যৌথ দায়িত্ব (Collective Responsibility): মন্ত্রিসভা একসাথে দায়ী
🧠 মনে রাখার কৌশল — শপথ কার কাছে?

"রা-স্পি, বাকি-রা"রাষ্ট্রপতি শপথ নেন স্পিকারের কাছে; বাকি সবাই (PM, মন্ত্রী, স্পিকার) শপথ নেন রাষ্ট্রপতির কাছে

📌 জাতীয় সংসদ ও আইন প্রণয়ন

বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) — এটি এককক্ষবিশিষ্ট (Unicameral)। সংসদ ভবন ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত। স্থপতি: আমেরিকান স্থপতি লুই আই কান (Louis I. Kahn)। নির্মাণকাল: ১৯৬১–১৯৮২

বিষয়তথ্য
মোট আসন৩৫০ (৩০০ সাধারণ + ৫০ সংরক্ষিত মহিলা)
সংসদের মেয়াদ৫ বছর (প্রথম বৈঠক থেকে)
ভোটার বয়স১৮ বছর
প্রার্থী বয়স২৫ বছর
কোরাম৬০ জন সদস্য (মোটের ১/৫)
সভাপতিস্পিকার (অনুচ্ছেদ ৭৪)
ডেপুটি স্পিকারঅনুচ্ছেদ ৭৪
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিপ্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা
হুইপ (Whip)দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষাকারী

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া

  1. বিল উত্থাপন: সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী কর্তৃক বিল পেশ
  2. প্রথম পাঠ: বিলের শিরোনাম ও উদ্দেশ্য পাঠ
  3. কমিটি পর্যায়: স্থায়ী কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে
  4. দ্বিতীয় পাঠ: বিস্তারিত আলোচনা ও সংশোধনী
  5. তৃতীয় পাঠ: চূড়ান্ত ভোটে গৃহীত
  6. রাষ্ট্রপতির সম্মতি: ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি দিতে হবে (অনুচ্ছেদ ৮০)
💡 অর্থ বিল বনাম সাধারণ বিল
  • অর্থ বিল: শুধুমাত্র সরকারি পক্ষ থেকে উত্থাপন করা যায়, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদন প্রয়োজন
  • সাধারণ বিল: যেকোনো সদস্য উত্থাপন করতে পারেন
  • সংবিধান সংশোধন বিল: সংসদের ২/৩ ভোটে পাস হতে হবে (অনুচ্ছেদ ১৪২)
💡 অনুচ্ছেদ ৭০ — দলত্যাগ বিরোধী বিধান

কোনো সংসদ সদস্য তাঁর দলের বিপক্ষে ভোট দিলে বা ভোটদানে বিরত থাকলে তাঁর আসন শূন্য হবে। এটি বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থার অন্যতম বিতর্কিত ধারা।

🎯 পরীক্ষায় যেভাবে আসে
  • "সংসদের কোরাম কত?" — ৬০ জন সদস্য
  • "সংবিধান সংশোধনে কত সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে?" — দুই-তৃতীয়াংশ
  • "সংসদ ভবনের স্থপতি?" — লুই আই কান
  • "অনুচ্ছেদ ৭০ কী?" — দলত্যাগ বিরোধী বিধান

📌 বিচার বিভাগ ও রিট

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (অনুচ্ছেদ ৯৪)। এটি দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত:

বিষয়তথ্য
প্রধান বিচারপতি নিয়োগরাষ্ট্রপতি কর্তৃক
অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগরাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতির পরামর্শে
যোগ্যতাকমপক্ষে ১০ বছর আইন পেশায় বা বিচার বিভাগে অভিজ্ঞতা
অবসরের বয়স৬৭ বছর
অপসারণসুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে
প্রধান অনুচ্ছেদ৯৪ (প্রতিষ্ঠা), ৯৫ (নিয়োগ), ৯৬ (অপসারণ), ১০২ (রিট)

📎 ৫ প্রকার রিট (Writ) — অনুচ্ছেদ ১০২

হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার রক্ষায় ৫ ধরনের রিট জারি করতে পারে:

রিটের নামঅর্থকাজউদাহরণ
হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus)"দেহ উপস্থিত করো"বেআইনি আটক থেকে মুক্তিপুলিশ কাউকে অবৈধভাবে আটকে রাখলে
ম্যান্ডামাস (Mandamus)"আমরা আদেশ করি"সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করাসরকারি দপ্তর কাজ না করলে
প্রহিবিশন (Prohibition)"নিষেধ"নিম্ন আদালতকে এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ থেকে বিরত রাখানিম্ন আদালত ক্ষমতার বাইরে গেলে
সার্শিওরারি (Certiorari)"নিশ্চিত করো"নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তলবত্রুটিপূর্ণ আদেশ বাতিল করা
কো-ওয়ারেন্টো (Quo Warranto)"কোন অধিকারে?"কেউ অবৈধভাবে সরকারি পদ দখল করলে জবাবদিহিঅযোগ্য ব্যক্তি পদে থাকলে
🧠 মনে রাখার কৌশল — ৫ রিট

"হে-ম্যান-প্রো-সার-কো"হেবিয়াস কর্পাস (দেহ), ম্যানডামাস (আদেশ), প্রোহিবিশন (নিষেধ), সারশিওরারি (তলব), কো-ওয়ারেন্টো (কোন অধিকারে)

📎 আদালতের স্তরবিন্যাস

স্তরআদালতবিবরণ
সর্বোচ্চসুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ)চূড়ান্ত আপিল আদালত
২য়সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ)রিট, আপিল, মূল এখতিয়ার
৩য়জেলা ও দায়রা জজ আদালতদেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা
৪র্থম্যাজিস্ট্রেট আদালত / সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট জজছোট মূল্যমানের মামলা
বিশেষপ্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, শ্রম আদালত, পরিবেশ আদালতনির্দিষ্ট বিষয়ে বিচার

📌 নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (অনুচ্ছেদ ১১৮)। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে নিয়োজিত।

বিষয়তথ্য
গঠনপ্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার (সর্বোচ্চ ৫ জন)
নিয়োগরাষ্ট্রপতি কর্তৃক
মেয়াদ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স — যেটি আগে হয়
অনুচ্ছেদ১১৮ (গঠন), ১১৯ (দায়িত্ব), ১২০ (কর্মকর্তা)
প্রধান দায়িত্বভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনী এলাকা সীমানা নির্ধারণ
💡 নির্বাচনী তথ্য
  • ভোটাধিকার বয়স: ১৮ বছর (অনুচ্ছেদ ১২২)
  • প্রতীক বরাদ্দ: নির্বাচন কমিশন করে
  • নির্বাচনকালীন সরকার: বর্তমানে দায়িত্বশীল সরকারের অধীনে (তত্ত্বাবধায়ক বাতিল — পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১)
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): নির্বাচন কমিশন প্রদান করে

📌 সাংবিধানিক পদধারী

সংবিধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদের উল্লেখ রয়েছে যা সরাসরি সাংবিধানিক মর্যাদা বহন করে:

পদনিয়োগকর্তাঅনুচ্ছেদবিশেষ তথ্য
রাষ্ট্রপতিসংসদ সদস্যদের ভোটে৪৮রাষ্ট্রের প্রধান
প্রধানমন্ত্রীরাষ্ট্রপতি৫৬সরকার প্রধান
স্পিকারসংসদ সদস্যদের ভোটে৭৪সংসদের সভাপতি
প্রধান বিচারপতিরাষ্ট্রপতি৯৫বিচার বিভাগের প্রধান
প্রধান নির্বাচন কমিশনাররাষ্ট্রপতি১১৮নির্বাচন কমিশনের প্রধান
মহা হিসাব-নিরীক্ষক (CAG)রাষ্ট্রপতি১২৭সরকারি হিসাব নিরীক্ষা
অ্যাটর্নি জেনারেলরাষ্ট্রপতি৬৪সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা
সরকারি কর্ম কমিশন (PSC) চেয়ারম্যানরাষ্ট্রপতি১৩৭সরকারি নিয়োগ তদারকি
🧠 মনে রাখার কৌশল — রাষ্ট্রপতি যাদের নিয়োগ দেন

"প্রধান-প্রধান-এ-মহা-পি"প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, টর্নি জেনারেল, মহা হিসাব-নিরীক্ষক, পিএসসি চেয়ারম্যান + নির্বাচন কমিশনার

📌 স্থানীয় সরকার

সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়। প্রতিটি প্রশাসনিক একক জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত।

পর্যায়গ্রামীণ এলাকাশহর এলাকাপ্রধান
নিম্নইউনিয়ন পরিষদপৌরসভাচেয়ারম্যান / মেয়র
মধ্যউপজেলা পরিষদসিটি কর্পোরেশনচেয়ারম্যান / মেয়র
উচ্চজেলা পরিষদচেয়ারম্যান
💡 স্থানীয় সরকার — গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
  • ইউনিয়ন পরিষদ: ১ চেয়ারম্যান + ৯ সাধারণ সদস্য + ৩ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য = মোট ১৩ জন
  • উপজেলা পরিষদ: চেয়ারম্যান + ২ ভাইস চেয়ারম্যান (১ জন মহিলা)
  • সিটি কর্পোরেশন: বর্তমানে ১২টি (ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ)
  • বিভাগ: ৮টি (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ)
  • জেলা: ৬৪টি, উপজেলা: ৪৯৫টি, ইউনিয়ন: ৪,৫৭১টি (প্রায়)
🧠 মনে রাখার কৌশল — ৮ বিভাগ

"ঢা-চ-রা-খু-সি-ব-র-ম"ঢাকা, ট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রিশাল, ংপুর, য়মনসিংহ

📌 গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ একনজরে

BCS ও Bank পরীক্ষায় অনুচ্ছেদ নম্বর থেকে বারবার প্রশ্ন আসে। সরকার ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদসমূহ:

অনুচ্ছেদবিষয়মূল কথা
৪৮রাষ্ট্রপতিরাষ্ট্রপ্রধান, PM-এর পরামর্শে কাজ
৪৯ক্ষমা প্রদর্শনরাষ্ট্রপতি দণ্ড মওকুফ করতে পারেন
৫৪অভিশংসনসংসদের ২/৩ ভোটে রাষ্ট্রপতি অপসারণ
৫৫মন্ত্রিসভাPM-এর নেতৃত্বে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ
৫৬PM নিয়োগসংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা
৫৯স্থানীয় সরকারনির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত
৬৪অ্যাটর্নি জেনারেলসরকারের প্রধান আইন উপদেষ্টা
৬৫সংসদ প্রতিষ্ঠাজাতীয় সংসদ নামে একটি আইনসভা
৭০দলত্যাগদলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে আসন শূন্য
৭৪স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারসংসদের সভাপতি
৮০বিলে সম্মতিরাষ্ট্রপতি ১৫ দিনে সম্মতি দেবেন
৯৩অধ্যাদেশ জারিসংসদ না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন
৯৪সুপ্রিম কোর্টআপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে গঠিত
৯৫বিচারপতি নিয়োগরাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ
১০২রিট এখতিয়ারহাইকোর্ট ৫ প্রকার রিট জারি করতে পারে
১১৮নির্বাচন কমিশনস্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা
১২৭CAGমহা হিসাব-নিরীক্ষক
১৩৭PSCসরকারি কর্ম কমিশন
১৪১কজরুরি অবস্থারাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন
১৪২সংবিধান সংশোধনসংসদের ২/৩ ভোটে সংশোধন

📌 পরীক্ষার কৌশল ও বারবার আসা প্রশ্ন

🎯 BCS ও Bank পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসা টপিক
  • ৫ প্রকার রিট: প্রায় প্রতিটি BCS-এ আসে — নাম, অর্থ ও প্রয়োগ মুখস্থ রাখুন
  • অনুচ্ছেদ নম্বর: ৪৮, ৫৫, ৫৬, ৭০, ৯৩, ৯৪, ১০২, ১১৮, ১৪২ — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
  • সংখ্যা মনে রাখুন: ৩৫০ আসন, ৬০ কোরাম, ৬৭ অবসর বয়স, ৩৫ রাষ্ট্রপতির যোগ্যতা বয়স
  • শপথ কার কাছে: শুধু রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে — বাকি সবাই রাষ্ট্রপতির কাছে
  • নিয়োগ কে দেন: রাষ্ট্রপতি (PM, CJ, AG, CAG, CEC, PSC Chairman)
💡 কনফিউজিং প্রশ্ন — সাবধান!
  • "রাষ্ট্র প্রধান" vs "সরকার প্রধান": রাষ্ট্রপতি ≠ প্রধানমন্ত্রী — রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিক, PM প্রকৃত
  • "সংসদীয়" vs "রাষ্ট্রপতি শাসিত": ১৯৯১ থেকে সংসদীয়, ৪র্থ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতি ছিল
  • "রিট" vs "আপিল": রিট = মৌলিক অধিকার রক্ষায়; আপিল = রায়ের বিরুদ্ধে
  • "সংবিধান সংশোধন" vs "সাধারণ আইন": সংশোধনী ২/৩, সাধারণ আইন সংখ্যাগরিষ্ঠতায়
  • "CEC মেয়াদ" vs "বিচারপতি অবসর": CEC ৫ বছর/৬৫ বয়স; বিচারপতি ৬৭ বয়স
🧠 সারসংক্ষেপ — সংখ্যা মনে রাখার টেবিল

১৮ = ভোটার বয়স | ২৫ = প্রার্থী বয়স | ৩৫ = রাষ্ট্রপতি যোগ্যতা | ৬০ = কোরাম | ৬৫ = CEC অবসর | ৬৭ = বিচারপতি অবসর | ৩০০ = সাধারণ আসন | ৫০ = সংরক্ষিত আসন | ৩৫০ = মোট আসন | ২/৩ = সংশোধন ও অভিশংসন

✅ Quick Check
অধ্যায়টি ঠিকমতো বুঝেছেন কিনা যাচাই করুন — ১০টি প্রশ্ন
১. জাতীয় সংসদে মোট আসন সংখ্যা কত?
💡 জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি আসন — ৩০০ সাধারণ ও ৫০ সংরক্ষিত মহিলা আসন।
২. সংসদ ভবনের স্থপতি কে?
💡 জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি আমেরিকান স্থপতি লুই আই কান (Louis I. Kahn)।
৩. রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে সর্বনিম্ন বয়স কত?
💡 রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে ন্যূনতম ৩৫ বছর বয়স হতে হবে।
৪. বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কোন ধরনের?
💡 বাংলাদেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু। প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রকৃত প্রধান।
৫. সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স কত?
💡 সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর।
৬. "হেবিয়াস কর্পাস" রিটের মূল উদ্দেশ্য কী?
💡 হেবিয়াস কর্পাস (Habeas Corpus) রিটের অর্থ "দেহ উপস্থিত করো" — বেআইনি আটক থেকে ব্যক্তিকে মুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
৭. অনুচ্ছেদ ৭০ কোন বিষয়ে?
💡 অনুচ্ছেদ ৭০ হলো দলত্যাগ বিরোধী বিধান — দলের বিপক্ষে ভোট দিলে আসন শূন্য হয়।
৮. নির্বাচন কমিশন কোন অনুচ্ছেদে প্রতিষ্ঠিত?
💡 নির্বাচন কমিশন অনুচ্ছেদ ১১৮ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত। অনুচ্ছেদ ৯৪ = সুপ্রিম কোর্ট, ১০২ = রিট, ১৪২ = সংবিধান সংশোধন।
৯. সংবিধান সংশোধনে সংসদে কত সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন?
💡 সংবিধান সংশোধনে সংসদের মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস করতে হয় (অনুচ্ছেদ ১৪২)।
১০. রাষ্ট্রপতি কার কাছে শপথ গ্রহণ করেন?
💡 রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে শপথ নেন — এটি একটি বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন। বাকি সবাই (PM, মন্ত্রী, স্পিকার) রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন।
← Previous: সংবিধান Next: অর্থনীতি →