বিদেশে বৈধভাবে কাজ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণে সহায়তা দিতে ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রি-ফাইন্যান্স তহবিল চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ৪৮১ জন ঋণগ্রহীতা মোট ১৩ দশমিক ০৩ কোটি টাকা পেয়েছেন। ঋণের অর্থ যাতে নির্ধারিত কাজেই ব্যবহৃত হয়, সেজন্য ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এক নজরে
| সংস্থা | বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক |
|---|---|
| তহবিলের পরিমাণ | ১ হাজার কোটি টাকা |
| সর্বোচ্চ ঋণ | ১০ লাখ টাকা |
| সুদের হার | সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ |
| মেয়াদ | প্রাথমিক ৩ বছর, ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড; প্রয়োজনে ৫ বছর পর্যন্ত |
| আবেদনের মাধ্যম | প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ওয়েবসাইট |
কে ঋণ পাবেন, কে পাবেন না
বৈধভাবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিরা এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীরা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো বৈধ মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া কর্মীরা ব্যাংকের অভিবাসন ঋণ নীতিমালার আওতায় ঋণ পেতে পারেন।
কী কী খরচ ঋণের আওতায়
বিদেশে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখা বা কাজের প্রয়োজনীয় দক্ষতার প্রশিক্ষণের টিউশন ফি এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে থাকা-খাওয়ার খরচ এই ঋণের আওতায় থাকবে। তবে বিমানের টিকিটের খরচ এই ঋণে দেওয়া হবে না।
প্রশিক্ষণ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফার লেটারে টিউশন ফি, কত মাসের জন্য প্রশিক্ষণ এবং থাকা-খাওয়ার খরচ কে বহন করবে—এসব তথ্য থাকতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া ও কিস্তি ছাড়
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ঋণের আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র প্রথমে শাখা পর্যায়ে যাচাই করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন হলে সংশ্লিষ্ট শাখায় অনুমোদনপত্র পাঠানো হবে।
চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আবেদনকারীকে নিজে শাখায় গিয়ে ঋণ গ্রহণের সম্মতি দিতে হবে। অনলাইনে আবেদনের পর আবেদনের অগ্রগতিও দেখা যাবে।
তহবিলটি ২০০ কোটি টাকা করে পাঁচটি সমান কিস্তিতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে দেওয়া হবে। একটি কিস্তির অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা যাচাই করে পরবর্তী কিস্তি ছাড় করা হবে।
আবেদন করার আগে
- আবেদনের আগে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা, সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি এবং ভাষা বা দক্ষতা প্রশিক্ষণের যোগ্যতার সনদ প্রস্তুত রাখুন।
- দুজন গ্যারান্টর লাগবে—একজন পরিবারের নিকটতম সদস্য এবং অন্যজন সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও ঋণ পরিশোধে সক্ষম ব্যক্তি।
- অফার লেটারে টিউশন ফি, প্রশিক্ষণের মেয়াদ এবং থাকা-খাওয়ার খরচ কে বহন করবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
- অনলাইনে আবেদন করলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর শাখায় গিয়ে ঋণ গ্রহণের সম্মতি দিতে হবে।
- ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না তা ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মনিটর করা হয়।
চাকরির বিজ্ঞপ্তি খুঁজছেন?
সরকারি, ব্যাংক, বেসরকারি ও NGO নিয়োগের আপডেট JobFeeds-এ এক জায়গায় পাবেন।